রাজধানী ঢাকা ভয়াবহ পরিবেশ-ঝুঁঁকিতে

রাজধানী ঢাকা ভয়াবহ পরিবেশ-ঝুঁঁকিতে

* চারপাশে প্রবাহিত নদীগুলো দূষণ-দখলে বিপন্ন
* প্রাকৃতিক খালসহ উন্মুক্ত জলাধারগুলো অস্তিত্বহীন
* দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে ভূপৃষ্ঠের পানির উৎস
* নগরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতে ব্যয় বাড়বে বহুগুণ

আশীষ কুমার দে
অল্প কিছুক্ষণের প্রবল বর্ষণে রাজধানী ঢাকার জনজীবনে কি দুর্বিসহতা নেমে আসে তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে নগরবাসী। এই দুর্বিসহতার দৃশ্যমান কারণ তীব্র জলাবদ্ধতা। তবে এর পেছনের কারণগুলো সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞসহ সচেতন মহলের জানা আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী ও প্রাকৃতিক খালসহ উন্মুক্ত জলাভূমিগুলো দূষণ, ভরাট ও দখল, ভূ-গর্ভ থেকে নিয়মিত মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন এই সমস্যার প্রধান কারণ।

তাঁদের আশঙ্কা, সমস্যার দ্রুত সমাধান না করতে পারলে ঢাকা মহানগরী নিকটভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের (ডব্লিউডব্লিউএফ) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় ভূপৃষ্ঠের পানির উৎস সংকুচিত ও ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ায় বর্তমানে শুধুমাত্র শিল্পকারখানাগুলোয় যে হারে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হচ্ছে, সে ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজধানীতে পানির চাহিদা আড়াইগুণ বেড়ে যাবে। এতে পানি ব্যবস্থাপনা বাবদ সরকারকে বছরে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকায় মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের প্রধান কারণ হচ্ছে বিশাল জনগোষ্ঠীর ব্যবহার্য পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।

প্রধানত ঢাকা ওয়াটার এন্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি (ঢাকা ওয়াসা) এ কাজটি করে থাকে। রাজধানীবাসীর অত্যাবশ্যকীয় চাহিদা মেটাতে প্রাকৃতিক জলাধারের পানির পাশপাশি ভূগর্ভের পানি উত্তোলন করে সংস্থাটি।

এছাড়া ঢাকা সেনানিবাস ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে আরো কয়েকটি মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয়।

রাজধানীতে পানির চাহিদা দৈনিক ২২৫ থেকে ২৩০ কোটি লিটার হলেও গ্রীষ্ম মৌসুমে তা আরো বেড়ে যায়। এই পানির ৭২ শতাংশ আসে যন্ত্রচালিত গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভ থেকে, বাকি ২৮ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় ভূপৃষ্ঠ থেকে।

ভূপৃষ্ঠের এই পানির উৎস শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদী। সেখান থেকে পানি এনে শোধন করে তা নগরবাসীর জন্য সরবরাহ করা হয়। এই পানির ১৫ শতাংশ ঢাকার সায়েদাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে (পানি শোধনাগার) শোধন করা হয়। বাকি ১৩ শতাংশ শোধন করা হয় ঢাকার চাঁদনীঘাট এবং নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দা ও গোদনাইল শোধনাগারে।

কিন্তু এই দুই নদীর পানি এতোটাই দূষিত যে, শোধন করেও পানযোগ্য তো দূরের কথা, গৃহস্থালি কাজেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

তবে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাসকিন এ খান বলেন, মাটির নিচ থেকে কম পানি উত্তোলনের জন্য ২০০৯ সালে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চাহিদার ৩০ শতাংশ নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি ৭০ শতাংশ উত্তোলন করা হচ্ছে ভূগর্ভ থেকে; যা পূর্বে ছিলো ৭২ শতাংশ। তিনি বলেন, পানি কম উত্তোলনের বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এছাড়া ভবিষ্যতে পানির স্তর ওপরে ওঠানোর জন্য ওয়াসার পরিকল্পনা রয়েছে।

‘বাংলাদেশের নদ-নদী ও নৌ পরিবহন ব্যবস্থা’ শীর্ষক গ্রন্থে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতে এ পর্যন্ত ৭৫০টি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে; যা ১৯৬৩ সালে ছিলো মাত্র ৩০টি। ৩৭ বছরে এর সঙ্গে ২৭৮টি যুক্ত হয়ে ২০০০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০৮। তবে এরপর থেকে গভীর নলকূপের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ১০ বছরে ২৫২টি বেড়ে ২০১০ সালে গভীর নলকূপের সংখ্যা হয় ৫৬০। পরবর্তী পাঁচ বছরে ১৪২টি বেড়ে এই সংখ্যা ২০১৫ সালে ৭০২ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ৪৮টি বেড়ে ২০১৬ সালে হয়েছে ৭৫০টি।

ঢাকা ওয়াসার তথ্য মতে, দৈনিক সাতটি অঞ্চলে বিরামহীনভাবে ২০ ঘণ্টা করে পাম্প মেশিন চালিয়ে ৭৫০টি গভীর নলকূপ থেকে প্রতিদিন ২৪২ কোটি লিটার পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারিভাবে আবাসিক এলাকা ও শিল্পকারখানায় ২,৩৪৮টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এরমধ্যে আবাসিক এলাকায় প্রায় ১,৪০০টি এবং বাকিগুলো রয়েছে শিল্পকারখানায়। এর বাইরে সেনানিবাস এলাকায় ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তাদের নিজস্ব গভীর নলকূপ রয়েছে।

ঢাকা ওয়াসা এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) তথ্য মতে, ঢাকায় গভীর নলকূপের মাধ্যমে মাত্রারিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভের পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে এবং দ্রুতই কমে আসছে ভূগর্ভস্থ পানির মজুদ। ঢাকা শহর ও এর আশপাশের এলাকায় ৩০০ মিটারের মধ্যে ভূ-গর্ভস্থ জলাধারের তিনটি স্তর রয়েছে।

প্রথম স্তরের নাম আপার ডুপিটিলা এ্যাক্যুইফার-১; যার পুরুত্ব গড়ে ৬৯ মিটার।

দ্বিতীয় স্তরের নাম আপার ডুপিটিলা এ্যাক্যুইফার-২; এ জলাধারের পুরুত্ব গড়ে ৩২ মিটার।

তৃতীয় স্তরের নাম লোয়ার ডুপিটিলা এ্যাক্যুইফার-৩; যার পুরুত্ব ৯৩ মিটার।

প্রথম স্তরের পানি ৭০ মিটার নিচে নেমে গেছে। ফলে এ জলাধারের অর্ধেক শুষ্ক অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তর থেকে উত্তোলন করে ঢাকার পানির চাহিদা মেটানো হচ্ছে। ওয়াসা ও আইডব্লিউএমের তথ্য মতে, ঢাকায় পানির স্তরের কেন্দ্র অঞ্চল উপরিভাগ থেকে তেজগাঁওয়ে ১৬০ মিটার, বনশ্রী এলাকায় ২৫০ মিটার, ধানমন্ডি এলাকায় ১৯০ মিটার ও পল্টন এলাকায় ১৫০ মিটার নিচে নেমে গেছে। অথচ রাজধানীর প্রান্তীয় এলাকায় পানির স্তর রয়েছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিটার নিচে। অধিকাংশ গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে বনশ্রী এলাকায়। ফলে অন্যান্য স্থানের তুলনায় সেখানে পানির স্তর বেশি নিচে নেমে গেছে। কোথাও কোথাও পানি উত্তোলন সম্ভব হয়ে উঠছে না।

এসব নলকূপ দিয়ে বছরের পর বছর বিরামহীনভাবে পানি উত্তোলন করা হলেও এর বিপরীতে ভূগর্ভের পানির স্তর খুব সামান্যই পূরণ হয়। কারণ দখল ও দূষণের প্রতিযোগীতার শিকার হয়ে ঢাকার চারদিকের নদীগুলোসহ নগরীতে উন্মুক্ত জলাশয় আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে। আর নগরায়নের নামে নিচু এলাকা ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা। এসব অট্টালিকা দখল করে আছে নগরীর অধিকাংশ এলাকা। রাজধানীর সড়কগুলোও কংক্রিটে মোড়ানো। অনেক ভবন সংলগ্ন খোলা জায়গাটুকুও কংক্রিট করা হয়েছে। এই কংক্রিট চুইয়ে বৃষ্টির পানি নিচে নামতে বাধা পায়। ফলে বন্যা বা বৃষ্টির পানি রাজধানীর উপরিভাগ থেকে সামান্যই নিচে নামতে পারে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ষাটের দশকে ৫০ ফুট নিচ থেকে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি ওঠানো যেতো। কিন্তু এখন অনেক স্থানে ১৫০ ফুট নিচে থেকেও পানি ওঠানো সম্ভব হয় না। সাধারণত মাটির নিচ থেকে যে পানি ওঠানো হয়, সেটি প্রাকৃতিকভাবেই পূরণ হতো। বৃষ্টির পানি ছাড়াও নদী, খালবিল ও জলাধারের পানি মাটি চুইয়ে ভূগর্ভে মিশে যেতো। এভাবেই প্রাকৃতিক নিয়মে ভূগর্ভের পানির স্তর স্বাভাবিক থাকতো। কিন্তু খাল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং অপরিকল্পিত নগরায়নে এখন আর সেই সুযোগ নেই।

‘বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরামহীন পানি উত্তোলনের কারণে ঢাকা মহানগরীর ভূগর্ভের পানির স্তর সাগর পৃষ্ঠের (বঙ্গোপসাগর) ২৫০ ফুট নিচে নেমে গেছে। ফলে সাগরের লোনা পানি দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চল পেরিয়ে মধ্যাঞ্চলসহ ঢাকা মহানগরীর দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী দেড় থেকে দুই দশকের মধ্যে সাগরের লোনা পানি ভূগর্ভের শূন্যস্থান পূরণ করতে শুরু করবে। ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এতো বেশি নিচে গেছে যে, এমনটি পৃথিবীর অন্য কোনো মেগাসিটিতে ঘটেনি। ওই গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে হাজার হাজার একর জলাভূমি, ফসলিজমি, নদ-নদীসহ অন্যান্য জলাশয় দখল হয়ে গেছে। এছাড়া দেশের রাস্তা-ঘাট, বাঁধ, সেতু, কলকাারখানা, অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণের ফলে সবুজ বৃক্ষরাজি-গাছগাছালি কমে যাচ্ছে; বৃদ্ধি পাচ্ছে তাপমাত্রা।

এ বিষয়ে পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) ঊর্ধŸতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভূ-গর্ভস্থ পানি) জাহিদ হাসান বলেন, ‘পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটির স্তরগুলো ভেতর থেকে ফাঁকা হয়ে যায়। মাটির ভেতর পানি না থাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

এছাড়া পানির স্তর নেমে যাওয়ায় আর্সেনিক ও ভূমিকম্পের হুমকি থাকে। ভূ-প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে নদ-নদী, জলাভূমি, বনভূমি ও পাহাড় একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে থাকে। এসব প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যেকোনো একটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হতে বাধ্য।’

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। ফাঁকা জায়গা না থাকায় যে পরিমাণ পানি উত্তোলন হয়, সে পরিমাণ রিচার্জ হয় না।

ফলে পানির স্তর আরো নিচে নেমে যায়।’ জাহিদ হাসান আরো বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোই যথেষ্ট নয়, পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে হবে। নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয় খনন করে এসব জলাশয়ের ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। পানি যাতে দূষিত না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’

জাতিসংঘের পানিবিষয়ক সংস্থা ইউএন ওয়াটারের তথ্য মতে, বাংলাদেশে পানি ব্যবহারের সব চেয়ে ভয়ংকর দিক হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার। সহ¯্রাধিক নদীসহ বিশাল আয়তনের উন্মুক্ত জলাভূমি সমৃদ্ধ দেশ হওয়ায় ভূ-উপরিস্থ পানির আধার হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষে থাকা দেশ। কিন্তু বর্তমানে দেশের শিল্প, কৃষি ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হওয়া পানির ৭৯ শতাংশই উত্তোলন করা হচ্ছে ভূগর্ভ থেকে। একদিকে অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিতভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে ভূগর্ভের পানি, অন্যদিকে শিল্প, গৃস্থালি, হাসপাতালসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যে ইতোমধ্যে মারাত্মক দূষিত হয়ে পড়েছে ঢাকার নদীগুলো; যার ৭০ শতাংশ দূষিত হয়েছে শুধুমাত্র শিল্পকারখানাগুলোর বর্জ্য।ে

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, দেশের বেশির ভাগ শিল্পকারখানায় এখনো বর্জ্য পরিশোধন যন্ত্র (ইটিপি) স্থাপন করা হয়নি।

এছাড়া বেশির ভাগ শিল্পকারখানা নদী ও জলাশয়ের তীরে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে পানির ব্যবহার কম করা সত্ত্বেও তারা সবচেয়ে বেশি পানি দূষণ করে। এভাবে দূষণের ফলে ঢাকার চারদিকে বৃত্তাকারে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এতো দূষণের পরেও রাজধানীবাসীর জন্য প্রতিদিন ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা ২৩০ কোটি লিটার পানির ২৮ শতাংশ (৬৪ দশমিক ৪ কোটি লিটার) বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা থেকে আসে। কিন্তু শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের পাশাপাশি নদীগুলোতে বর্জ্য ফেলে যে হারে দূষণ ঘটাচ্ছে তাতে আগামী এক দশকের মধ্যেই ঢাকার চার পাশের সব নদীর পানি-ই ৯৫ শতাংশ দূষিত হয়ে যাবে। ফলে তখন শুধু ঢাকা মহানগরী-ই নয়, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর বাসিন্দাদের দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতে ভূগর্ভের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বেড়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বরেন, অদূর ভবিষ্যতে সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে ঢাকা শহরকে রক্ষা করতে এবং রাজধানীকে বাসযোগ্য রাখতে সর্বাগ্রে এর চার পাশের নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে। এজন্য বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যাসহ সব নদীকে অবৈধ দখল ও সব ধরনের দূষণের কবলমুক্ত করতে হবে।

পরিবেশবিদ ম. ইনামুল আরো বলেন, নদী ও নদীর পানি ব্যবহারযোগ্য করতে খননের মাধ্যমে নদীগুলোকে প্রাণবন্ত ও খরস্রোতা করে তুলতে হবে; দূষণ ও দখল রোধে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা। নদীর দু’পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বিপুলসংখ্যক বৃক্ষচারা রোপন করে ঘটাতে হবে সবুজের সমারোহ; যাতে বুড়িগঙ্গা-শীতলক্ষ্যা কেন্দ্রিক একটি নৌ-পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠে।

Share