এপ্রিলে শুরু হচ্ছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র খনন

এপ্রিলে শুরু হচ্ছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র খনন

অরুন দাস
সরকার বিলুপ্ত নদ-নদী ও নৌপথ পুনরুদ্ধারের ধারাবাহিকতায় আরো একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এর প্রথম ধাপে রয়েছে প্রয়োজনীয় খননের মাধ্যমে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদকে প্রবহমান করে নৌ চলাচল উপযোগী নাব্যতা ফিরিয়ে আনা।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নদটি খনন করা হবে।

‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই ও পুনর্ভবার নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ প্রকল্পের আওতায় বৃহত্তম এ নদ খনন করবে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

এ লক্ষ্যে প্রকল্পের একটি প্যাকেজের দরপত্র ইতোমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সূত্র মতে, খননের মাধ্যমে এ নদকে দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথে উন্নীত করা হবে; যাতে সারা বছর সেখানে নৌযান চলাচল করতে পারে।

প্রসঙ্গত, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অপরিকল্পিত বাঁধ, যথাযথভাবে নদীশাসন না করে সেতু নির্মাণ, দীর্ঘদিন খনন কিংবা পলি অপসারণ না করা, সুষ্ঠু রক্ষণা-বেক্ষণের অভাব এবং অবৈধভাবে নিরবিচ্ছিন্ন বালু উত্তোলনের কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদ ব্রহ্মপুত্র এখন মৃতপ্রায়। পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে নদটি খননের দাবি জানিয়ে আসছেন।

পাউবোর তথ্য মতে, বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় একসময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের প্রশস্ততা ছিল ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার। এখন তা ভরাট হতে হতে স্থানভেদে ১০০ থেকে ২০০ মিটারে ঠেকেছে। সেই খরস্রোতা নদ কোনো কোনো স্থানে পরিণত হয়েছে মরা খালে।

সূত্র মতে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ব্রহ্মপুত্রের মতো আরো প্রায় অর্ধশত ছোট-বড় নদ-নদীর অবস্থা একই রকম। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সোমেশ্বরী, কংশ, গুনাই, ঝিনাই, ধানু, বাউলাই, শিরখালী, চেলাখালী, মতিচিক, চালহি, বংশাই, মানস, পুটিয়া, জিনজিরাম, সুবনফিরি, বলেশ্বর, বগাই কংশ, কাউলাই, ধনু, সিলাই, রাজবাড়ী, খারমেনি আয়মন, সুতিয়া, ঘরোটা, সিমাহালী, নরসুন্দা, বোথাই, নিতারী, কাঁচামাটিয়া, পানকুরা, সাইদুল, মুগরা, রাংরা, খারমরি, মাহাডেবা ও জাদুকাটা।

পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা জানান, একসময়ের উচ্ছ্বল-স্রোতস্বিনী এসব নদ-নদী এখন বিপন্ন। মানুষের অপরিণামদর্শী কর্মকান্ডের ফলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নদীর রেখাচিহ্ন পড়ে থাকা চরগুলো থেকেও উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। খরা মৌসুমে পানির বদলে এসব নদীর বুকে দেখা যায় ধু ধু বালুচর। কোথাও কোথাও ছোট-বড় নদীর বুকে চলে চাষাবাদ। এসব নদ-নদীর অববাহিকায় বসবাস করে প্রায় দু’কোটি মানুষ; যারা নানাভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নৌ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই ও পুনর্ভবার নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারে ৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।

প্রকল্পের আওতায় বাহাদুরাবাদের দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র থেকে উৎপন্ন হয়ে জামালপুর ও ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে গিয়ে মেঘনায় মিলিত হওয়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ২২৭ কিলোমিটার অংশে খননকাজ করা হবে। ১০০ মিটার প্রস্থ ও তিন মিটার গভীর খননের মাধ্যমে নৌপথটি ক্লাস-২ নেভিগেশনাল রুটে (দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথ) উন্নীত করা হবে।

সূত্র মতে, একই প্রকল্পের আওতায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ধরলা নদীর সম্পূর্ণ অংশই খননের মাধ্যমে ৩৮ মিটার প্রস্থ করা হবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে টাঙ্গন নদীর ভারতীয় অংশে মিলিত হওয়া তুলাই নদীর ৭০ কিলোমিটার অংশে খননকাজ করা হবে। ৩৮ মিটার প্রস্থ ও দেড় মিটার গভীর খননের মাধ্যমে এটিকে চতুর্থ শ্রেণির নৌপথে উন্নীত করা হবে।

নৌপথটি সারা বছর সংরক্ষণ
করতে হবে: পিডি রকিবুল
জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পূর) ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) রকিবুল ইসলাম তালুকদার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র খননে দরপত্র আহ্বানের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, যারা ক্যাপিটাল ড্রেজিং করবে তারা পরবর্তী তিনবছর এ নদের সংরক্ষণ কাজও করবে। ব্রহ্মপুত্র খনন করা হলে যমুনা থেকে পানির সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ বালু আসবে।

এ কারণে নৌপথটি সারা বছর সংরক্ষণের আওতায় রাখতে হবে। এজন্য জামালপুরে একটি ড্রেজার বেজ গড়ে তোলার পাশাপাশি ময়মনসিংহেও ড্রেজিং অফিস করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার জানান।

Share