চমক রেখেই বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

চমক রেখেই বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

* শক্তিশালী দল নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ
* তাসকিনকে বাদ দেয়ার কারণ জানালো বিসিবি
* দল থেকে নিজে বাদ পড়ায় কাঁদলেন তাসকিন

ক্রীড়া ডেস্ক
অবশেষে নানা জ্বল্পনা- কল্পনা অবসান হলো। মাশরাফি বিন মর্তুজাকে অধিনায়ক করে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোড (বিসিবি)।

এই দলে ডাক পেয়েছেন আবু জায়েদ রাহী। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন তিনি। এই তরুণ পেসার ঢোকায় বাদ পড়েছেন তাসকিন আহমেদ; যা তাঁকে অশ্রুসিক্ত করেছে।

রাজধানীর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কনফারেন্স হলে ১৬ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। এ সময় তাঁর পাশে বসা ছিলেন অন্য নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন, বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান এবং বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।

বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে এতোদিন যে জ্বল্পনা-কল্পনা তাতে নতুন যোগ হয়েছেন এখনো পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক না হওয়া পেসার আবু জায়েদ রাহী। এবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমকই বলতে হবে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্স করা এই পেসার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতার ঝুলি হলো কেবল ৫টি টেস্ট এবং ৩টি টি- টোয়েন্টি। মাশরাফি, মোস্তাফিজ, রুবেলের সঙ্গে চতুর্থ পেসার হিসেবেই দলে নেওয়া হয়েছে আবু জায়েদকে।

রাহী ছাড়াও এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমকের নাম মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ মিঠুন, সাইফুদ্দিন। প্রথমবারেরমত বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং লিটন কুমার দাস।

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে দলে নেওয়া হবে কি হবে না, তা নিয়ে তুমুল আলোচনা ছিলো। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আবাহনীর অধিনায়ক হিসেবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শেখ জামালের বিপক্ষে আবাহনীর ১৪ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। সেই সেঞ্চুরিই বলতে গেলে বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে দিয়েছে মোসাদ্দেককে।

মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ইয়াসিন রাব্বির নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তার ঠাঁই হয়েছে শুধুমাত্র আয়ারল্যান্ডে ত্রি-দেশীয় সিরিজে। সম্ভাবনাময়ী স্পিনার নাঈম হাসানের নামও ছিলো আলোচনার টেবিলে। রাব্বির সঙ্গে তাকেও যোগ করে নেওয়া হয়েছে ত্রি-দেশীয় সিরিজের দলে।

ইনজুরির কবলে পড়ে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর মাঠে ফিরে আসলেও তাসকিন আহমেদের ওপর আস্থা রাখতে পারলেন না নির্বাচকরা। আগে থেকেই তার ব্যাপারে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের দলে জায়গাই মিললো না তাসকিন আহমেদের। তাকে বাদ দিয়েই ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্বকাপ দল। আলোচনায় ছিলেন ২০১১ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা শফিউল ইসলামও। কিন্তু প্রিমিয়ার ক্রিকেটে অফফর্মই তাকে ঠেলে দিলো আলোচনার বাইরে।

চিন্তা ছিলো সৌম্য সরকারকে নিয়ে। অফ ফর্মের কারণে সৌম্য সরকার দলে থাকবেন কি থাকবেন না, তা নিয়ে ছিলো তুমুল আলোচনা। এমনকি প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগের প্রথম ম্যাচেও মাত্র ২ রান করে আউট হয়েছেন সৌম্য। তবুও শেষ পর্যন্ত তাকে রাখা হলো বিশ্বকাপের দলে। একটাই কারণ, অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতার কারণেই মূল্যায়িত হয়েছেন তিনি।

প্রিমিয়ার ক্রিকেটসহ সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন পেসার সাইফুদ্দিন। এই তো সর্বশেষ প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে ৬ ওভারে ২ মেডেন ও ৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। মোট ৯ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ১৭ টি। ব্যাট হাতেও দারুণ সফল তিনি। ৭ কিংবা ৮ নম্বরে নেমে ঝড় তুলতে পারঙ্গম। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোট ৩টি ফিফটি করেছেন তিনি। রান করেছেন ৩৬.২০ গড়ে ১৮১। এমন একজন পেস অলরাউন্ডারের বিশ্বকাপের দলে ঠাঁই না দেয়াটাই যেন হয়ে যাবে অন্যায়।

ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী লিটন দাসই। তার সঙ্গেই তৃতীয় ওপেনার তথা ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে সৌম্য সরকার রয়েছেন। লিটনের ফর্ম নিয়ে দুঃশ্চিন্তা থাকলেও বিকল্প না থাকায় তাকেই সুযোগ দেয়া হয়েছে। ইমরুল কায়েস কিংবা এনামুল হক বিজয়ের ওপর আস্থা রাখতে পারেননি নির্বাচকরা। সাত নম্বরে সাব্বির রহমানের জায়গাটা নিশ্চিত হয়েই ছিলো।

তিন নম্বর নিয়ে রয়েছে চিন্তা। এ জায়গা কাকে খেলানো হবে? সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, সাকিব আল হাসান নাকি সাব্বির রহমান? আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়েই হয়তো এ বিষয়ে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে হয়তো টিম ম্যানেজমেন্ট।

দলে রয়েছেন চারজন স্পেশালিস্ট পেসার। মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে অবধারিতভাবেই রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, সাইফুদ্দিন এবং চতুর্থ পেসার আবু জায়েদ রাহী। স্পিন স্পেশালিস্ট একজন মেহেদী হাসান মিরাজ। সঙ্গে রয়েছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে খেলেন।

পঞ্চপান্ডব মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জায়গা নিশ্চিতই ছিলো। সঙ্গে নিশ্চিত ছিলেন মোস্তাফিজ, মিরাজ, সাইফুদ্দিন, রুবেল হোসেন, লিটন এবং সাব্বির। বাকি জায়গাগুলো নিয়ে আলোচনা ছিলো। শেষ পর্যন্ত সৌম্য, মিঠুন, মোসাদ্দেক, আবু জায়েদ রাহীর সুযোগ মিললো বিশ্বকাপের দলে।

গত প্রায় মাস খানেক ধরে ক্রিকেটপাড়া ও শেরে বাংলার আশপাশে যেসব গুঞ্জন শোনা গেছে তাতে দল সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা জন্মে গিয়েছিলো সবার। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও বারকয়েক বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। এমনকি একদিন তো তিনি নিজেই ১৫ সদস্যের নাম প্রায় ঘোষণা করে দিয়েছিলেন।

বিশ্বকাপে শক্তিশালী বাংলাদেশ
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্য সব আসরের চেয়ে এবারের আসরে সবচেয়ে শক্তিশালী দল নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দলের ১৫ সদস্যের মধ্যে আটজন ক্রিকেটারের এর আগে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল এবার চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও রুবেল হোসেন এর আগে দুটি করে বিশ্বকাপ খেলেছেন। সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান খেলেছেন একটি করে বিশ্বকাপ।

মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্বকাপ না খেললেও তার বোলিং বিশ্বের যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্য ‘ভয়ানক’। মিডল-অর্ডারে মোহাম্মদ মিথুন নিয়মিত ভালো করে আসছেন। এছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও সম্প্রতি সময়ে দারুণ ক্রিকেট খেলছেন। সবমিলিয়ে দলটি বেশ শক্তিশালী।

তবে কিছু ক্ষেত্রে দলের দুর্বলতাও রয়েছে। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে ইনজুরি। দলের প্রায় প্রতিটি খেলোয়াড়ই ইনজুরিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। বিশ্বকাপের সময় যদি সকলে ফিট থাকেন তাহলে সেটা দলের জন্য সুখবর। আর যদি একসঙ্গে কয়েকজন ক্রিকেটার ইনজুরিতে আক্রান্ত হন তাহলে সেটা দলের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে আনবে। সম্প্রতি সময়ে দেখা গেছে, ম্যাচের পর ম্যাচ দলের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হচ্ছেন। বিশ্বকাপেও যদি এই ধারাবাহিকতা থেকে যায় তাহলে সেটা দলের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

‘সেরা দলটাই বেছে নিয়েছি’
বাইরের আলোচনা- সমালোচনা যতোই থাকুক না কেনো, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু মনে করছেন বিশ্বকাপের জন্য সেরা দলটিই ঘোষণা করতে পেরেছেন তারা। এই মুহূর্তে স্কোয়াডের ১৫ জনই দেশের সেরা ক্রিকেটার।

তিনি বলেন, অবশ্যই এটা আমাদের সেরা দল। বিশ্বকাপের জন্য আমরা দল তৈরি করেছি, অবশ্যই এই মুহূর্তে এটা সেরা দল। এখানে কিন্তু একজন বাদে বাকি সবারই অভিজ্ঞতা আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার। আবু জায়েদ রাহীরই শুধু অভিষেক হয়নি। সেই হিসেবে আমি মনে করি যে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো করবো।’

স্কোয়াডটিকে সেরা বললেও কয়েকজন খেলোয়াড়ের ফর্ম নিয়ে চিন্তা ঠিকই রয়ে গেছে প্রধান নির্বাচকের। টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার কিংবা লেট অর্ডারে সাব্বির রহমানরা সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা রানের দেখা পাননি। তবে এটিকে খুব বড় করে দেখতে রাজি নন নান্নু। তার মতে ঘুরে দাঁড়ানোর পর্যাপ্ত সময় এখনো রয়েছে হাতে।

নান্নুর ভাষ্যে, ‘ফর্ম নিয়ে তো আমরা অবশ্যই চিন্তায় আছি। আরেকটি ব্যাপার হলো যে, বিশ্বকাপের আগে এখনো তিন মাস সময় আছে। মাঝে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজও আছে। সুতরাং টিম ম্যানেজমেন্ট এবং কোচের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। একটি সুযোগ সামনে আছে।

আর এরা কিন্তু এর আগে পারফর্ম করেছে। এমন না যে পারফর্ম করেনি। এটি আসলে সময়ের ব্যাপার। আমার কাছে মনে হচ্ছে যে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগেই আমাদের এখানে যে প্রস্তুতি ক্যাম্প আছে এখানে আমরা ইনশাআল্লাহ ওদেরকে ভালো অবস্থানে পেয়ে যাবো।’

এ সময় বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ব্যাপারে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচক আরো বলেন, ‘সেরা চারের মধ্যে যাওয়ার প্রত্যাশা থাকবে সবসময়। আর আমি মনে করি এখন যে অভিজ্ঞ দল ওয়ানডের…আমরা কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫১ শতাংশ ম্যাচ জিতেছি। এটা কিন্তু একটা প্লাস পয়েন্ট। যতোগুলো ওয়ানডে খেলেছি তার মধ্যে ৫১ শতাংশ ম্যাচ জিতেছি। এই অভিজ্ঞতার কারণেই আমাদের প্রত্যাশা বেশি। আমি মনে করি এই দলের অবশ্যই সামর্থ্য আছে এক থেকে চারের মধ্যে থাকার।’

তাসকিনকে বাদ দেয়ার কারণ
আশায় বুক বেঁধে ছিলেন বিশ্বকাপ খেলবেন। কিন্তু দুভার্গ্য! বিশ্বকাপের গত আসরের সেরা বোলার তাসকিন আহমেদ এবার দর্শক। জাতীয় দলের নির্বাচকরা বলছেন, তাসকিন খেলার জন্য ফিট নন।

তাসকিনের বাদ পড়া নিয়ে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাসকিনের একটা দীর্ঘ বিরতি পড়ে গেছে। ওকে যখন নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য চিন্তা করলাম, তখন (বিপিএলে) আবার চোটে পড়ে। আমাদের কাছে ফিজিওর যে রিপোর্টগুলো আছে তাতে স্পষ্ট সে এখনো পুরোপুরি ফিট না।

তিনি আরো বলেন, আমরা চাচ্ছিলাম তাসকিনকে স্কিলের দিক দিয়ে পুরোপুরি ফিট হিসেবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে সে একটা ম্যাচ খেলেছে। তবুও তার ফিটনেস সন্তোষজনক নয়।

বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে (বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ-আয়ারল্যান্ড) একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ হবে। সেখানে যদি কেউ চোটাক্রান্ত হয় তাহলে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ হতে পারে তাসকিনের। এমনটি জানিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, আয়ারল্যান্ড সফরে যদি কেউ চোটে পড়ে তাহলে বিকল্প হিসেবে তাসকিনকে ডাকা হবে।

কাঁদলেন তাসকিন
আগের বিশ্বকাপেও ছিলেন টাইগারদের পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা। অথচ পরের বিশ্বকাপের স্কোয়াডেই সুযোগ পাননি পেসার তাসকিন আহমেদ। এই হতাশা তিনি লুকিয়ে রাখতে পারেননি। বরং সংবাদ মধ্যমের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন।

দীর্ঘদিন ইনজুরির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাসকিন। সেই ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইনজুরিতে পড়ার পর থেকেই দলের বাইরে ছিলেন। বিপিএলে দিয়ে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

কিন্তু এরপর আবার ইনজুরি হানা। সর্বশেষ চোট কাটিয়ে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে খেলতে নামলেও ওই ম্যাচে ৫ ওভারে দিয়েছেন ৩৬ রান। উইকেট পাননি। সবেমাত্র চোট থেকে সেরে উঠেছেন। ফিরতে তো সময় লাগবেই।

ফলে তাকে দলে নেওয়ার ঝুঁকি নেননি নির্বাচকরা। শুধু বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নয়, তার আগে আয়ারল্যান্ড সফরের দলেও নেই তাসকিন। দল ঘোষণার পর সংবাদ মাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। কেঁদেই ফেললেন।

কান্না চেপে এক পর্যায়ে তাসকিন বললেন, সবাই তো ভালো চায়, সামনে আরো সুযোগ আছে। আমি আমার চেষ্টা চালিয়ে যাবো। সুপার লিগ খেলবো (ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ)। ভালো করে খেলার চেষ্টা করবো। সবাই দোয়া করবেন।’ কথাটা বলেই দ্রুত চোখ মুছতে মুছতে স্থান ত্যাগ করলেন তিনি।

এর আগে ২০১১ সালে দেশের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন ওয়ানডে দলের বর্তমান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিশ্বকাপের আগে তিনিও ইনজুরিতে পড়েছিলেন। স্কোয়াড ঘোষণার আগে ইনজুরি কাটিয়ে উঠলেও পুরো ফিট না থাকায় তাকে দলে জায়গা দেননি তখনকার কোচ জেমি সিডন্স।

তখন অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, তাকে দলে না রাখার পেছনে তৎকালীন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানেরও ভূমিকা ছিলো। যদিও মাশরাফি তখন যথেষ্ট ফিট ছিলেন বলেই জানা যায়। সে যাই হোক, সেবার দল ঘোষণার পর নিজের নাম তালিকায় না দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মাশরাফি। সেই কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিলো দেশের কোটি ক্রিকেটভক্তদেরও। তাসকিনের কান্না মাশরাফির ওই মুহূর্তকেই যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে।

আগামী ৫ মে থেকে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ১৭ সদস্যের দলও ঘোষণা করেছে বিসিবি। ত্রিদেশীয় সিরিজের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের ওয়ানডে দলে জায়গা পেয়েছেন নাঈম হাসান, আবু জায়েদ রাহি ও ইয়াসির আলী। তবে আইসিসি’র অনুমতি ছাড়া এই বিশ্বকাপ স্কোয়াড পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে ২৩ মে পর্যন্ত। তাই পারফম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন আনতে পারে ক্রিকেট বোর্ড।

আগামী ৩০ মে বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। আর ২ জুন লন্ডনের কেনিংটন ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দল
মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, আবু জায়েদ রাহি, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

ত্রিদেশীয় সিরিজে ১৭ সদস্যের দল
মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, আবু জায়েদ রাহি, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাঈম হাসান, ইয়াসির আলী।

Share