ভিসা বাতিল, দেশে ফিরলেন ফেরদৌস

ভিসা বাতিল, দেশে ফিরলেন ফেরদৌস

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার

বিনোদন ডেস্ক
ভারতজুড়ে বইছে ভোটের হওয়া। এবার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন দেশটির শোবিজ অঙ্গনের অনেকে তারকা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এবারের ভোটে তারকাদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।

ভারতের রায়গঞ্জের প্রার্থী কানাইয়ালালের হয়ে ভোট চাইতে টালিউড থেকে বলিউডের অনেকে উড়ে আসছেন।

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের এক প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নামলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। এই অপরাধে তাঁর ভিসা বাতিল করেছে ভারত সরকার।

শুধু তাই-ই নয়, তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপরই ১৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন তিনি।

এর আগে চিত্রনায়ক ফেরদৌসকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয় দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

এ বিষয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইমিগ্রেশন ব্যুরো থেকে বাংলাদেশি নাগরিক ফেরদৌস আহমেদের ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের খবরের ভিত্তিতে তাঁর বিজনেস ভিসা বাতিল করে তাঁকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। তাঁকে কালো তালিকাভুক্তও করা হয়েছে।’

এরপর কলকাতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশে ফেরেন ফেরদৌস। ফেরদৌসের পারিবারিক সূত্রে এ তাঁর দেশে ফেরার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কলকাতার একটি সূত্র জানান, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দত্তা’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য সপ্তাহখানেক ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন ফেরদৌস।

এর মধ্যে গত ১৪ এপ্রিল রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়ালার পক্ষে ভোট চান তিনি। টালিউডের তারকা পায়েল ও অঙ্কুশকে নিয়ে ‘রোড শো’ করেন ফেরদৌস।

তৃণমূল প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়ালার পক্ষে রোড শো’তে ফেরদৌস আহমেদ

তৃণমূলের একটি নির্বাচনী সভায় মমতার দলের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, “এই বাংলার জন্য দিদিকে চাই, দিদিকে দরকার। দুই বাংলার সম্প্রীতির জন্য দিদিকে দরকার। রাস্তাঘাট সংস্কার হচ্ছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হচ্ছে। ১৮ তারিখ সারাদিন তৃণমূলে ভোট দিন। (ইভিএমে) এক নম্বর বোতাম টিপে তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দিন।”

এরপরই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নেতারা। বাংলাদেশী এই জনপ্রিয় অভিনেতার বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন ও নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন তারা।

বাংলাদেশ হাইকমিশন, কলকাতার বরাত দিয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি আসার আগেই কলকাতা হাইকমিশন ফেরদৌসকে যতোদ্রুত সম্ভব ভারত ছাড়তে বলে।

পশ্চিমবঙ্গে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পাওয়া ফেরদৌস এখনো সেখানে বেশ জনপ্রিয়।

রায়গঞ্জ আসনে প্রচুর সংখ্যালঘু মুসলিমের বাস। জনসংখ্যার হারে মুসলিম বেশি। ওই আসনে বিজেপির প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী, কংগ্রেসের প্রার্থী দীপা দাস মুন্সি আর সিপিএমের প্রার্থী বর্তমান বিদায়ী সাংসদ মোহাম্মদ সেলিম।

ফেরদৌসের অংশগ্রহণের পর তীব্র প্রতিবাদ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘তৃণমূল তো বিদেশি তারকা এনে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে। এ ধরনের ঘটনা এর আগে দেখিনি। কাল হয়তো ইমরান খানকে প্রচারে ডাকবে তৃণমূল।’

দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন তুলে আরো আরো বলেন, ‘এভাবে ভারতের একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি তারকা আসতে পারেন? তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইন মানেন না। ভোট কম পড়লে রোহিঙ্গাদের ডেকে আনবেন। কাল হয়তো ইমরান খানকে তৃণমূলের প্রচারে ডাকবেন। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই।’

তবে এর পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন তৃণমূলের নেতা মদন মিত্র। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অকৃত্রিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাই এটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে হয়েছে। এর জন্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো প্রশ্ন নেই।

এর আগে তৃণমূলের পক্ষে ভোট চান অভিনেতা গাজী আবদুন নূর। গত ১২ এপ্রিল কামারহাটির শুকতারা মাঠে লোকসভার প্রার্থী সৌগত রায়ের সমর্থনে আয়োজিত রোড শোতে নূরকে নিয়ে তৃণমূলের পতাকা লাগানো হুডখোলা জিপে করে প্রচার চালান রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী মদন মিত্র।

বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাটের বাসিন্দা অভিনেতা নূর বর্তমানে কলকাতার একটি টিভি চ্যানেলে রানী রাসমনি সিরিয়ালে রাসমনির স্বামী রাজেন্দ্র দাসের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

Share