দাদার বাড়ি দেখা হলো না জায়ানের

দাদার বাড়ি দেখা হলো না জায়ানের

পাঠকের কন্ঠ ডেস্ক
শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরে মা- বাবার সঙ্গে দাদার বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল জায়ান চৌধুরীর (৮)। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে ওর দাদাবাড়ি। নাতি বাড়ি আসবে, সেই খুশিতে দাদা মতিনুল হক চৌধুরী (এম এইচ চৌধুরী) ঢাকা থেকে চলে আসেন গ্রামের বাড়িতে। শুরু করেন বাড়ির সংস্কারকাজ। গাড়ি যাতে সহজে বাড়িতে আসতে পারে, সে জন্য রাস্তায় নতুন মাটি ভরাট করেন। গ্রামের একে- ওকে নাতির আসার খবরটি দিয়েছেন। কিন্তু ২১ এপ্রিল বিকেলে পাওয়া দুঃসংবাদে সব এলোমেলো হয়ে যায়।

শ্রীলঙ্কায় ২১ এপ্রিল একযোগে তিনটি হোটেল ও তিন গির্জায় বোমা হামলা হয়। পরে আরো দুটি স্থানে বিস্ফোরণ হয়। এতে এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই হামলায় জায়ান চৌধুরীও নিহত হয়। জায়ান আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের ছেলে। হামলায় আহত জায়ানের বাবা মশিউল হক চৌধুরী সেখানকার একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

ভাটিপাড়া গ্রামে জায়ানের দাদা এম এইচ চৌধুরীর বাড়িটি এলাকায় ‘জমিদার বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত। তাঁদের পূর্বপুরুষ এলাকার জমিদার ছিলেন। বিশাল বাড়িটি বেশ পুরোনো। বাড়ির বেশির ভাগ ঘর খালি পড়ে আছে। পরিবারের সদস্যদের বেশির ভাগ থাকেন ঢাকায়। মাঝেমধ্যে কেউ বেড়াতে আসেন। খবর প্রথম আলো অনলাইন।

২৩ এপ্রিল দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে প্রথমে দেখা হয় বৃদ্ধ আবু নোমান চৌধুরীর সঙ্গে। ঘরের বারান্দায় মনমরা হয়ে বসে ছিলেন। তিনি এম এইচ চৌধুরীর চাচাতো ভাই, শিশু জায়ানের সম্পর্কে আরেক দাদা। জায়ানের প্রসঙ্গ তুলতেই কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘বড় ভালো ছেলে ছিল জায়ান।’

আবু নোমান চৌধুরী বলেন, এবার মা- বাবাকে নিয়ে গ্রামে আসবে। সেই সঙ্গে তার নানা শেখ সেলিম সাহেবেরও আসার কথা ছিল। সে জন্য জায়ানের দাদা ২০ দিন আগে গ্রামে আসেন। বাড়িঘরের টুকটাক কাজ করান। বাড়ির সমানের রাস্তায় নতুন মাটি ফেলেছেন।

আবু নোমান চৌধুরী বলেন, ‘জায়ান এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেলো, এটা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। তারা কেনো আমার নিষ্পাপ নাতিকে মারলো। তার কী দোষ ছিল। প্রধানমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নাই, দেশ নাই।’

এম এইচ চৌধুরীর আরেক চাচাতো ভাই কাইজার চৌধুরী থাকেন যুক্তরাজ্যে। তিনি সম্প্রতি দেশে ফিরে সুনামগঞ্জে নিজ বাড়িতে এসেছেন। কাইজার চৌধুরী বলেন, রোববার (২১ এপ্রিল) বিকেলে বড় ভাই এম এইচ চৌধুরীর সঙ্গে ঘরের বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন। এমন সময় তাঁরা খবরটি পান। সঙ্গে সঙ্গে ভাইকে ঢাকা পাঠালান। কাইজার চৌধুরী বলেন, তাঁর ভাতিজা মশিউল হক চৌধুরী (প্রিন্স), তাঁর স্ত্রী শেখ আমিনা সুলতানা সোনিয়া এবং তাঁদের দুই ছেলে জায়ান চৌধুরী ও জোহান চৌধুরী শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে জায়ান বড়। সে কখনো দিরাইয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেনি। দাদার বাড়ি আর দেখা হলো না তার।

ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সৈদুর রহমান তালুকদার বলেন, নাতি জায়ান চৌধুরী এবার গ্রামে আসবে, এই খবর দাদা এম এইচ চৌধুরী সবাইকে জানিয়েছিলেন। তিনি বেশ খোশমেজাজে ছিলেন। রাস্তাঘাটের কাজ করিয়েছেন। কিন্তু দাদার সেই আশা আর পূরণ হলো না। জায়ান চৌধুরীর মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকার মানুষ কষ্ট পেয়েছে।

Share