শিক্ষক-প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা

শিক্ষক-প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা

বাগেরহাট সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০৭ বছর পূর্তি

এস এম রাজ, বাগেরহাট
দশ বছরের শিশু থেকে সত্তরোর্ধ্ব প্রবীণ- কে না এসেছিলেন প্রাণের মেলায়? যাঁরা বয়োবৃদ্ধ তাঁরাও একদিনের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন হারানো শৈশব ও কৈশোরে। বয়সের ব্যবধান ভুলে শিশু, কিশোর, যুবক, প্রৌঢ়- সবাই মেতে উঠেছিলেন আনন্দ- ফূর্তি আর দূরন্তপনায়।

না, এটা কোনো জাতীয় উৎসব অঙ্গন কিংবা খেলার মাঠ নয়। হযরত খান জাহানের (রাঃ) পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত সুন্দরবন ঘেষা উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বর। শহরের ছায়ানিবীড় এক প্রান্তে এর অবস্থান। পাশেই ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম। তার একপাশে দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র মহাবিদ্যালয় (পি সি কলেজ), বাগেরহাট এবং আরেক পাশে বাগেরহাট সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়।

দিনটি ছিল ১৯ এপ্রিল। বাগেরহাট সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে এদিন আয়োজন করা হয় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেখানে যোগ দিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষকেরাও।

তাঁদেরই একজন কালিদাশ বিষ্ণু; যিনি ছাত্রজীবন ও শিক্ষকতা মিলিয়ে দীর্ঘ ৪৩ বছর কাটিয়েছেন এখানে। প্রধান শিক্ষক হিসেবে কয়েক বছর দায়িত্ব পালনের পর এখান থেকেই ইতি টেনেছেন দীর্ঘ কর্মজীবনের।

প্রবীণ শিক্ষক কালিদাশ বিষ্ণু বলেন, “আজ (১৯ এপ্রিল) আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দমুখর দিন। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী যাঁরা আমার ছাত্র ছিলেন এবং যাঁরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন, তাঁরা আজ আমাকে যে সম্মান দিলেন তা আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। আমি আমৃত্যু তাঁদের কাছে ঋণী হয়ে থাকবো।”

বিদ্যালয়ের ১০৭ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন ছাত্র- ছাত্রীদের পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের। সকালে বিদ্যালয় চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিদ্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও প্রাক্তনীদের স্মৃতিচারণ।

অনুষ্ঠানের এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন ১০৭ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন ছাত্র- ছাত্রীদের পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কাজী মুকিত ঝন্টু; যিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে এ বিদ্যাপিঠকে প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে নিজেকে গর্বিত করেছেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর সিপাহশালার শেখ কামরুজ্জামান টুকু। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বাগেরহাট জেলা পরিষদের বর্তমান এই চেয়ারম্যানও সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

১০৭ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন ছাত্র- ছাত্রীদের পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব তালুকদার রিনা সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন- বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী কালীদাশ বিষ্ণু, বর্তমান প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার কীর্তনীয়া, প্রাক্তন শিক্ষক পরিতোষ কুমার পাল, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি শেখ লিয়াকত হোসেন লিটন, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক ডা. মোশারেফ হোসেন, ভাষাসৈনিক ইব্রাহিম হোসেন লালন, পৌরসভার সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসমা আজাদ, বাংলাদেশ বেতারের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি খন্দকার আকমল উদ্দিন সাখি, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নির্মল কুমার দাস, মুকুন্দ কুমার দাস প্রমুখ।

মধ্যহ্ন ভোজের পর বিকালে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন।

Share