হোটেলে বিস্ফোরণ ঘটায় মুসলিম ২ ভাই

হোটেলে বিস্ফোরণ ঘটায় মুসলিম ২ ভাই

শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের সকালে দুই হোটেলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় মুসলিম দুই ভাই। তারা অতিথির পরিচয় দিয়ে নাশতার জন্য সবার সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১ এপ্রিল কলম্বোর পাঁচ তারকা হোটেল শাংরি লা ও সিনামন গ্র্যান্ডে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এই দ্ইু ভাই। তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে বলা হচ্ছে, তারা শ্রীলঙ্কার এক ধনী মসলা ব্যবসায়ীর ছেলে।
দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, নিজস্ব মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করেই তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেছিলেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, আরো একটি হোটেলে বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল। আগে থেকে গোয়েন্দার সদস্যরা তথ্য জেনে যাওয়ায় হামলাকারীরা সফল হয়নি।

২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশে গির্জা ও হোটেলে সবমিলিয়ে আটটি স্থানে বিস্ফোরণে ৩৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব হামলায় ৫ শ’র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা ওইদিন সকালে গির্জায় প্রার্থনা করার সময় শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর একটিসহ দেশটির তিনটি গির্জায় একযোগে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় একইসময়ে কলম্বোর তিনটি পাঁচ তারকা হোটেল- শাংরি লা, সিনামন গ্র্যান্ড ও কিংসবুরিতেও বোমার বিস্ফোরণ হয়।

সকালে ছয়টি স্থাপনায় হামলার কয়েকঘণ্টা পর দুপুরে কলম্বোর দক্ষিণাঞ্চলের দেহিওয়ালা এলাকায় একটি হোটেলে সপ্তম বিস্ফোরণটি ঘটে। এরপর কলম্বোর উত্তরে ওরুগোদাওয়াত্তা এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

বোমা হামলায় নিহতের ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ঘটনার তিনদিনের মাথায় ২৪ এপ্রিল এই গোষ্ঠীর নিজস্ব সংবাদ মাধ্যম আমাক নিউজ এজেন্সি একথা জানিয়েছে।

এদিকে এর আগে হামলার ঘটনায় দেশটির ‘দ্যা ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত- এনটিজে নামক একটি চরমপন্থী ইসলামি সংগঠন দায়ী বলে ধারণা করে শ্রীলঙ্কার পুলিশ। তাদের ধারণা, ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো যারা ঘটিয়েছে তাদের বড় অংশ একটি এই উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। এই গোষ্ঠীটি স্থানীয়ভাবেই তাদের তৎপরতা চালায় বলে বলা হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার।

Share